Posts

ওমরাহ কি?

ওমরাহ কি?              ওমরাহ আরবি শব্দ। ওমরাহর আভিধানিক অর্থ হলো ধর্ম, কর্ম, ইবাদত, সুখকর, সেবা, স্থিতিশীল, জীবন, মহাপ্রাচীন, স্থাপত্য-স্থাপনা, প্রাপ্তি, অভ্যর্থনা, জিয়ারত বা সফর ও ইচ্ছা।             শরীয়তের ভাষায়- শরীয়ত নির্দেশিত বিশেষ পদ্ধতিতে ইহরামসহ, ক্বা’বা শরীরে চর্তুদিকে তাওয়াফ করা, ‘সাফা’ ও ‘মারওয়া’ পাহাড়দ্বয়ের মধ্যস্থলে সাঈ করা এবং মাথা মুন্ডানোকে ওমরাহ বলে৷ এটিকে ‘ওমরা’ও বলা হয়৷ এ সম্পর্কে কোরআন করিমে রয়েছে: ‘নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্যতম; তাই যারা হজ করবে বা ওমরাহ করবে, তারা এতদুভয়ের প্রদক্ষিণ (সায়ী) করবে।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৮)।           ওমরাহ পালন করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল।             এটি পুরুষ ও মহিলা সবার জন্য প্রযোজ্য। ওমরাহ করলে হজ ফরজ হয়ে যায়, এ রকম কোনো বিধান নেই। মক্কা-মদিনার প্রতি আকর্ষণ ও হৃদয়ের টান ইমানের পরিচায়ক। তাই অনেকে প্রেমের টা...

মানুষের চুলের ব্যবসা করা কী জায়েজ?

 প্রশ্ন:  মানুষের ( মহিলা/পুরুষ ) চুলের ব্যাবসা করা কি জায়েজ ?   উত্তরঃ- মানুষের শরীর ও তার অংশবিশেষ কোন ব্যবসায়িক পণ্য নয় যে, তা দিয়ে ব্যবসা করা হবে। মানুষের হাত পায়ের মতই তার চুলও তার শরীরের একটি অংশ। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, পুরুষদের জন্য মাথার চুল বড় হয়ে গেলে তা কর্তিত করার বিধান রয়েছে। নারীদের বিষয়ে (বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত) তাও নিষিদ্ধ। قَطَعَتْ شَعْرَ رَأْسِهَا أَثِمَتْ وَلُعِنَتْ زَادَ فِي الْبَزَّازِيَّةِ وَإِنْ بِإِذْنِ الزَّوْجِ لِأَنَّهُ لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ، (رد المحتار، كتاب الحظر والإباحة، فصل البيع-6/407 মানুষ সম্মানিত প্রাণী। কোন পণ্য নয়। তাই মানুষের কোন অঙ্গ বা কর্তিত অংশকে ব্যবসায়িক পণ্য হিসিবে ক্রয়বিক্রয় করা সম্পূর্ণ হারাম। তাই মানুষের চুল, নখ ইত্যাদির ব্যবসা করা জায়েজ নয়। وَكَذَا بَيْعُ كُلِّ مَا انْفَصَلَ عَنْ الْآدَمِيِّ كَشَعْرٍ وَظُفْرٍ لِأَنَّهُ جُزْءُ الْآدَمِيِّ، وَلِذَا وَجَبَ دَفْنُهُ كَمَا فِي التُّمُرْتَاشِيِّ وَغَيْرِهِ (رد المحتار، كتاب الحظر والاباحة، فصل فى البيع-9/552) وَشَعْرِ الْإِنْسَانِ وَالِانْتِفَاعِ بِ...

আয়াতুল কুরসী

  আয়তুল কুরসী  :   اَللهُ   لَاإِلَـٰهَ   إِلَّا   هُوَ   الْحَيُّ   الْقَيُّوْمُ   ۚ   لَا   تَأْخُذُهُ   سِنَةٌ   وَلَانَوْمٌ   ۚ   لَّهُ   مَافِيْ   السَّمَاوَاتِ   وَمَافِيْ   الْأَرْضِ   ۗ   مَن   ذَا   الَّذِيْ   يْشْفَعُ   عِندَهُ   إِلَّا   بِإِذْنِهِ   ۚ   يْعْلَم   ُمَا   بَيْنَ   أَيْدِيْهِم   ْوَمَا   خَلْفَهُمْ   ۖ   وَلَا   يُحِيْطُوْنَ   بِشَيْءٍ   مِّنْ   عِلْمِهِ   إِلَّا   بِمَاشَاءَ   ۚ   وَسِعَ   كُرْسِيُّهُ   السَّمَاوَات   ِوَالْأَرْضَ   ۖ   وَلَايَئُوْدُهُ   حِفْظُهُمَا   ۚ   وَهُوَالْعَلِيُّ   الْعَظِيْمُ উচ্চারণ : আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম , লা তা’খযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাউমু, লাহু-মা ফিস সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্বি, মানযাল্লাযী ইয়াস ফা’উ ইনদাহু ইল্লা বি‘ইযনিহি, ইয়া‘লামু মা বাইনা আই...

সূরা হাশর

  সূরা হাশরের শেষাংশ   : هُوَاَللهُ   الَّذِيْ   لَا   إِلَـٰهَ   إِلَّا   هُوَ   ۖ   عَالِمُ   الْغَيْبِ   وَ   الشَّهَادَةِ   ۖ   هُوَ   الرَّحْمَـٰنُ   الرَّحِيْمُ   ﴿٢٢﴾   هُوَ   اَللهُ   الَّذِيْ   لَا   إِلَـٰهَ   إِلَّاهُوَالْمَلِكُ   الْقُدُّوسُ   السَّلَامُ   الْمُؤْمِنُ   الْمُهَيْمِنُ   الْعَزِيْزُ   الْجَبَّارُ   الْمُتَكَبِّرُ   ۚ   سُبْحَانَ   اللهِ   عَمَّا   يُشْرِكُونَ   ﴿٢٣﴾   هُوَ   اَللهُ   الْخَالِقُ   الْبَارِئُ   الْمُصَوِّرُ   ۖ   لَهُ   الْأَسْمَاءُ   الْحُسْنَىٰ   ۚ   يُسَبِّحُ   لَهُ   مَا   فِيْ   السَّمَاوَاتِ   وَ   الْأَرْضِ   ۖ   وَهُوَ   الْعَزِيْزُ   الْحَكِيْمُ   ﴿٢٤﴾ উচ্চারণ : হুওয়াল্লা হুললাযী লা-ইলাহা ইল্লাহু আ’-লিমুল গাইবি ওয়াশশাহাদাতি হুওয়ার রাহমানুর রাহীম। হুওয়া...

সফরের নামায

  সফরের নামায সফরের   নামায কেউ যদি নিজ এলাকা থেকে আটচল্লিশ মাইল দূরে যাওয়ার এবং সেখানে পৌঁছে পনেরো দিনের কম থাকার নিয়ত করে তাহলে সে কসর পড়বে। নিজ এলাকা থেকে বের হওয়ার পর থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত। কসর অর্থ হচ্ছে চার রাকা’আত বিশিষ্ট নামায দুই রাকা’আত পড়া। যথা জোহর আসর ও ইশা। দুই বা তিন রাকা’আত বিশিষ্ট নামাযে কসর নেই। যেমন ফজর ও মাগরিবের নামায এবং বিতর নামায। সফরের নামায সম্পর্কে কতিপয় হাদীসে রাসূল : ১.ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। আল্লাহতায়ালা তোমাদের নবীর মাধ্যমে আবাসে চার রাকা’আত এবং প্রবাসে (সফরে) দুই রাকাত নামায ফরয করেছেন। (সহীহ মুসলিম) ২.আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , আমরা রাসূলুল্লাহু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মক্কা রওয়ানা করি। আমরা মক্কা থেকে মদিনা ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি চার রাক’আতের নামায দুই রাকা’আত পড়েছেন। (সহীহ আল বোখারী ও সহীহ মুসলিম) রাসূলুল্লাহু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সকল সফরের নামায দুই রাকাত করে পড়েছেন। সুতরাং আমাদেরও শুধু উচিৎ নয় বরং আবশ্যিকভাবে সফরে চার রাকা’আত নামায দুই রাকা’আত করে পড়া।

রাতে ঘুমানোর পূর্বের আমল

  রাতে ঘুমাবার পূর্বের আমল একদা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন আলী ! পাঁচটি কাজ সম্পাদন না করে নিদ্রা যেয়ো না। রাতে   ঘুমাবার   পূর্বের   আমল একদা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন আলী ! পাঁচটি কাজ সম্পাদন না করে নিদ্রা যেয়ো না। প্রথমত  – মিসকীনদের মধ্যে চার হাজার দেরহাম সাদকা করবে। দ্বিতীয়ত – অন্তত এক খতম কুরআন পাঠ করবে। তৃতীয়ত – জান্নাতের মূল্য পরিশোধ করবে। চতুর্থত  – হজ্জ আদায় করবে। পঞ্চমত – সমগ্র দাবীদারদের তুষ্ট করবে। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আরজ করলেন , ইয়া রাসূলুল্ল¬াহ! এতগুলি কাজ একরাতে সমাধা করা কিভাবে সম্ভবপর হবে? নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন- প্রথমত: শয়নের আগে ৪ বার সূরা ফাতেহা পাঠ করবে। এতেই ফকীর-মিসকীনের মধ্যে চার হাজার দেরহাম সদকা দান করার তুল্য নেকি অর্জিত হয়ে যাবে। اَ   لْحَمْدُ   لِلّٰهِ   رَبِّ   الْعَالَمِيْنَ   ﴿٢﴾   اَ   لرَّحْمَـٰنِ   الرَّحِيْمِ   ﴿٣﴾   مَالِكِ   يَوْمِ   الدِّيْنِ   ﴿٤﴾   اِيَّاكَ   نَعْبُ...

বান্দার হক থেকে তাওবা করার উপায়

  বান্দার হক থেকে তাওবা করার উপায় বান্দার হক থেকে তাওবা করার উপায় আলহামদু লিল্লাহি নাহমাদুহূ ওয়া নাস্তাঈনুহূ ওয়া নাস্তাগফিরুহ ওয়াছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া ‘আলা আলিহী ওয়া আছহাবিহী ওয়া বারাকা ও সাল্লামা তাসলীমান কাছীরা, আম্মা বা‘দ। এক মালফূযে হাকীমুল উম্মত হযরত থানবী (রাহ) বলেন, ‘নেক আমল অথবা তাওবা দ্বারা গোনাহ মাফ হয়ে যায়, তবে কারো হক মাফ হয় না। সুতরাং যথাসম্ভব বান্দার হক আদায় করতে হবে এবং সমস্ত হক আদায় করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা রাখতে হবে। তারপর যদি কিছু বাকি থেকে যায় এবং মৃত্যু এসে যায়, তখন আল্লাহ তা‘আলার কাছে আশা করা যায় যে, তিনি তাকে দায়মুক্ত করে দেবেন, অর্থাৎ মাযলূমকে খুশী করে জালিমের মাগফিরাত করে দেবেন।’ (আনফাসে ঈসা, ১৯৮) ছাগীরা ও কবীরা গোনাহ কীভাবে মাফ হয়? এখানে হযরত (রহ) নেক আমল দ্বারা এবং তাওবা দ্বারা গোনাহ মাফ হওয়ার কথা বলেছেন; তবে পার্থক্য এই যে, নেক আমল দ্বারা শুধু ছগীরা গোনাহ মাফ হয়, আর তাওবা দ্বারা কবীরা গোনাহও মাফ হয়। হাদীছ শরীফে যে নেক আমল দ্বারা গোনাহ মাফ হওয়ার খোশখবর এসেছে তা দ্বারা শুধু ছাগীরা গোনাহ উদ্দেশ্য। যেমন বর্ণিত আছে, অযু করার সময় বান্দা যখন হাত ধোয় তখন হাতের গোনা...